সোনাইমুড়ীতে ২০১৬ সালের জোড়া খুনের মামলায় নুর আলম মুন্সি নামে এক আসামীকে গ্রেফতার

Uncategorized

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে ২০১৬ সালের জোড়া খুনের মামলায় নুর আলম মুন্সি নামে এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পোরকরা গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের মার্চে সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরা গ্রামে গুজব সৃষ্টি করে প্রকাশ্য দিবালোকে ‘খ্রিষ্টান’ অপবাদ দিয়ে মসজিদের দু’জন নির্মাণ শ্রমিককে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি নুর আলম মুন্সি। জানা গেছে- তিনি চরমোনাই পীরের মুরিদ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের মার্চে পোরকরা গ্রামে স্থানীয় হেযবুত তওহীদ সদস্য ও গ্রামবাসী মিলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ শুরু করে। ওই সময় নির্মাণাধীন মসজিদটিকে স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী ‘গীর্জা’ বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে।

১৪ মার্চ ঘটনার দিন কয়েকটি মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা গুজব রটিয়ে ‘খ্রিষ্টান মারো গির্জা ভাঙ্গো’ শ্লোগান দিয়ে সাধারণ জনগণকে উত্তেজিত করে সেখানে হামলা চালায়। এ ঘটনায় নোয়াখালী জেলার ততকালীন পুলিশ সুপার ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যসহ হেযবুত তওহীদের শতাধিক লোক আহত হয়, দু’জনকে জবাই করে হাত পায়ের রগ কেটে, গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। একজন পুলিশও গুলিবিদ্ধ হয়। হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়াও রাস্তা অবরোধ করে পুলিশের উপর হামলা ও থানায় আক্রমণ করা হয়। সেই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাঙচুরের একটি মামলা করে। সেই মামলার অন্যতম আসামি পোরকরা গ্রামের মৃত সালামত উল্যাহর ছেলে নুর আলম মুন্সীকে দীর্ঘ ৩ বছর পালাতক থাকার পর মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেফতার করে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ঘটনার পরের দিন থেকেই সে কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানায় আত্মগোপন করে ছিল। তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা, ভাংচুর, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়াসহ লুটপাটের ৬ মামলায় ওয়ারেন্ট আছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন