অনূর্ধ্ব ১৯ বালিকা  রাগবি চ্যাম্পিয়ান  গাজিরচট এ এম কলেজ

খেলা শিরোনাম সারাদেশ
বিশেষ প্রতিনিধি আতিয়ারুল ইসলাম

রাগবি খেলার ইতিহাস সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, ১৮২৩ সালে যুক্তরাজ্যের মিডল্যান্ড এলাকার রাগবি স্কুলে ফুটবল খেলা চলাকালীন  উইলিয়াম ওয়বে এলিস নামের এক শিক্ষার্থী পায়ের বদলে হাত দিয়ে বল ধরে বিপক্ষের সীমার দিকে ছুঁটতে থাকে। এই ঘটনাকে  রাগবি খেলার উৎস বলা হয়। আর ওই স্কুলের নাম অনুসারে এই খেলার নাম দেওয় হয় রাগবি।রাগবি খেলা বহির্বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রচার এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে খেলাটি বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।

১৮৭১ সালে প্রথম আন্তজার্তিক রাগবি প্রতিযোগিতা শুরু হয় ইংল্যান্ড ও সু্ইজারল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে। রাগবি বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা। ১৮৪৬ সালে এই খেলা স্বীকৃতি লাভ করে। ১৮৮০ সালের মধ্যে সারা ইংল্যান্ডে রাগবি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ১৯৫৪ সাল থেকে রাগবি বিশ্বকাপ শুরু হয়। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয় এই বিশ্বকাপ। আসছে ২০১৯ সালে জাপানে হবে রাগবি ওয়ার্ল্ডকাপ। এ খেলার সর্বোচ্চ সংস্থার নাম ওয়ার্ল্ড রাগবি বোর্ড (ডব্লিউআরবি), যা ১৮৮৬ সালে গঠিত হয়।

২০০৬ সালে বাংলাদেশে রাগবির প্রচলন শুরু হয়। সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজর ছাত্রদের নিয়ে বাংলাদেশে এই খেলার সূচনা। ১০০ জন ছাত্র রাগবি খেলার নিয়ম কানুন শেখে ও তারদেরকে নিয়েই প্রথম টুনামেন্ট করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় উন্মুক্ত রাগবি টুর্নামেন্ট-২০০৬।বাংলাদেশ ২০১২ সালে রাগবি এসোশিয়সনকে ফেডারেশন হিসাবে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ অলিম্পক এসোশিয়াসন রাগবি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৩ সালে রাগবি বাংলাদেশ গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়।বাংলাদেশে ২০০৬ সাল থেকে  সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজে  মোহাম্মদপুর,কোর্সের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন। রাগবি যেকোনো মাঠে যেকোনো ঋতুতে খেলা যায়। রোদ, বৃষ্টি, কাদাযুক্ত মাঠ, বালুর মাঠ, ঘাসের মাঠ যেকোনো মাঠে খেলা যায়। প্রতি বছর নানা ধরনের কোচিং প্রগ্রাম হয়ে থাকে বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়নে। তাছাড়া প্রতি বছর ১৫ হতে ১৬ টি টুনামেন্ট হয়ে থাকে যেমন- জাতীয় রাগবি (পুরুষ-মহিলা), স্বাধীনতা দিবস কাপ, ফেডারেশন কাপ, স্কুল রাগবি (ছেলে-মেয়ে), কলেজ রাগবি(ছেলে-মেয়ে), মিনি রাগবি,অনূর্ধ্ব-১০, ১২, ১৬, ১৮ টুনামেন্ট হয়ে থাকে। এছাড়াও বিজয় দিবস কাপ, বৈশাখী রাগবি ইত্যাদি টুনামেন্ট হয়ে থাকে। ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ ট্যালেন্ট হান্ট হয় ১৭টি জেলায়। তা পর ১৭টি জেলা থেকে ভাল ভাল খেলার নিয়ে ঢাকাতে আবার এক মাসের ক্যাম্প করা হয় ৪০ জন খেলোয়াড় নিয়ে। তার ফল সরুপ ২০১৭ সালে জাতীয় রাগবি প্রতিযোগিতায় ১৯টি জেলা দল অংশগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তর অধীনে ১৫টি জেলায় রাগবি ক্যাম্প।এ ধারাবাহিকতায় ২০১৯ এর অনুর্ধ ১৯ বালিকা  রাগবি চাম্পিয়ানশীপ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডি মহলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে, পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ওয়ালটন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশনের ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠিতব্য বালিকা কলেজ শাখার এবারের ফাইনাল খেলায় ১০/৫ পয়েন্টে আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজ কে গাজিরচট এ এম কলেজ শাখা দল হারিয়ে চ্যাম্পিয়ানের গৌরব অর্জন করেন।চ্যাম্পিয়ন দলের মিতা সেরা খেলোয়ার বিবেচিত হন।
খেলা শেষে পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ালটন গ্রুপের ওপারেটিভ চিফ এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের  পরিচালক শাজাহান আলী বাংলাদেশ রাগবি ফেডারেশন ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ,সহ কর্মকর্তা বৃন্দ।এছাড়াও খেলায় অংশগ্রহন কারি কলেজের শিক্ষক অভিভাবক। উক্ত খেলার ম্যাচ পরিচালনায় ছিলেন
নাজমুস সাকিব, আবু আরিফ, জহিরুল ইসলাম,ফাহিম সরকার,ও জয়ন্তী আফজাল।

পোস্টটি শেয়ার করুন