আশুলিয়ার কাটগড়া ,চাঁদাদাবি গুলি বর্ষন,গ্রেফতার ১(গুলির স্বীকারোক্তি কল ভয়েজ)

আইন-আদালত শিরোনাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার আশুলিয়ার কাটগড়া পালোয়ান পাড়া আমতলা এলাকায় ব্যাক্তিগত উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৗশলী অধিদপ্তর কতৃক অনুমদিত,যার স্বারক নং –এলজিইডি /উঃপ্রা/সাভার/২০/৪৫৯

সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা নিয়ে চাঁদা দাবিকরে আসছিলো বলে জানান মেসার্স ফিরোজা এন্টাপ্রাইজ এর ম্যানেজার বেলাল হোসেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে ফারুক আহমেদ এর মালিকানাধীন মেসার্স ফিরোজা এন্টাপ্রাইজ এর ম্যানেজার বেলাল নামের এক ব্যাক্তিকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহিন পালোয়ানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে আসে আশুলিয়ার কাটগড়া পালোয়ান পাড়া এলাকায়, ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সুয়ারেজ লাইন তৈরি করা নিয়ে শাহীন পালোয়ান এবং ফারুক আহমেদ  এর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চলে আসছিলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই।এ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে সমঝোতার আলোচনাও হয়। কিন্তু উভয়ে উভয়ের প্রতি দোষারোপ বিশদগার,প্রতিহিংসা পরিলক্ষিত হয়,যে কারনে সমঝোতায় আসা অসম্ভব হয়ে পরে মনে করেন প্রতিবেদক।

গত সপ্তাহের প্রথমে আশুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাতবরের উপস্থিতিতে সুয়ারেজ লাইন কাজের উদ্বোধন করেন ফারুক আহমেদ বলে জানান ফারুক আহমেদ সহ অন্যান্যেরা। কাজ শুরুর পর থেকেই শাহীন পালোয়ান ফারুকের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে ড্রেনের কাজ করছে বলে দাবি করে আসছে। ফারুক আহমেদের উদ্বোধন কৃত কাজের স্থান, সাহিন পালোয়ান দাবি করছে এই লাইনটা তার জন্য অনুমোদন কৃত এবং বৈধ।ফারুকের জন্যে এটা বৈধ নয়,সে অন্যায় ভাবে সাহীন পালোয়ানের অনুমদিত এলাকায় ড্রেনেজ এর কাজ কছেন, এমন দাবিই করেন শাহীন পালোয়ান সাংবাদিকদের কাছে।

৬ জুন রবিবার  সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শাহীন পালোয়ান,কতৃক ফারুকের ড্রেনেজ কনস্ট্রাকসন সাইটের সশস্ত্র হামলার সংবাদে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী ফিরোজা এন্টারপ্রাইজ মালিকের ঠিকাদার বেলাল হোসেন জানান, আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া আমতলা এলকায় সকাল থেকে শ্রমিকদের নিয়ে  আমতলা হতে বেঙ্গল মোড় পর্যন্ত সড়কে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ কনস্ট্রাকসন এর কাজ করাচ্ছিলেন তিনি।

আনুমানিক দুপুর ১১ টার দিকে শাহিন পালোয়ান ও তার মালিকানাধীন পালোয়ান ট্রেডার্স এর ম্যানেজার অলিউর সহ আরো কয়েকজন সঙ্গবদ্ধভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে ড্রেনেজ তৈরির কনস্ট্রাকসন এর সকল কাজ বন্ধ রাখতে বলে। এ সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করেন ও কাজ বন্ধ করতে বলেন শাহিন পালোয়ান বলে জানান বেলাল হোসেন।

বেলাল আরো বলেন চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শাহিন তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে ঠিকাদার বেলালকে লক্ষ্য করে গুলি করে। বেলার বলেন এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা জড়ো হতে থাকলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান শাহিন পালোয়ান ও তার দলবল।

সরেজমিন তথ্যসংগ্রহ কালে অনেকেই বলতে শুনাযায় গত দুই-তিন দিন যাবতকাল ফারুক আহমেদের কাজের সাইট পরিচালনা করতে মোটা অংকের চাদা দাবি করে আসছিলো শাহীন পালোয়ান, চাদার টাকা না দেওয়াতেই আজকের স্বশস্ত্র হামলার কারন বলে জানান ফারুক আহমেদের গ্রুপের সুয়ারেজ লাইন প্রস্তুতকারি লোকজন। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় অবহিত করলে, আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকের সঙ্গীয় ফোর্স এলাকা পরিদর্শন করেন শাহীন পালোয়ান এর সঙ্গীয় দুই জনকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে বসিয়ে রাখেন।

সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের  বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহীন পালোয়ান এর সাক্ষ্যপ্রহনে এবং বক্তব্যের জন্যে সাংবাদিক এবং পুলিশ তার বাড়ি সহ তার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও শাহীন কে না পেয়ে দফায় দফায় মোবাইলে যোগাযোগ এর চেষ্টার এক  তার সাথে সংযোগ করতে শেষ পর্যন্ত সফল হয় প্রতিবেদক।

মোবাইল ফোন কলে শাহীন পালোয়ান অকপটে স্বীকার করেন ফারুক অন্যায় ভাবে তার অনুমদনকৃত স্থানে আমাকে ঠকিয়ে সে তার সার্থহাসিল করছে ,যে প্রজেক্টে ফারুক আহমেদ কাজ করছে সেটা তার বলে দাবি করেন শাহীন পালোয়ান। ।তার অন্যায় কাজে বাধাদান এবং শাহীন তার লাইসেন্স কৃত বৈধ পিস্তল দিয়ে একরাউন্ড ফাকা ফায়ার করেছেন।তবে শাহীন প্রতিবেদ কে আরো বলেন সাইটে ফারুক থাকলে তাকেই গুলি করতাম।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পালোয়ান ট্রেডার্স এর ম্যানেজার অলিউর কে আটক করেছে পুলিশ। আটক অলিউর মানিকগঞ্জের আব্দুর সাত্তারের ছেলে। অভিযুক্ত শাহিন পালোয়ান আশুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বলেও জানা যায়। তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাহিন পালোয়ান এই এলাকায় নানা অপর্কম করে বেড়ায়। তার নামে অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগের জন্য একাধীক মামলাও আছে আশুলিয়া থানায় । এখনো সে অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ দেবে বলে বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তলন করছে।এলাকায় বেশ প্রচলিত আছে, এলাকায় কোনো ব্যবসা বানিজ্য করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। সেখানে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন