গোপনে প্রেমের বিয়ে সানজিদা’র তিন মাসের মাথায় রহস্যজনক আত্মহত্যা

বাংলাদেশ শিরোনাম

পলাশ সরকার গাজীপুর: বিয়ের মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গত শুক্রবার রাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় জনৈক ডেইজি শিকদারে সাবলেট ভাড়াটিয়া নববধু সানজিদা আক্তার (১৯) রহস্যজনক ভাবে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা যায়, গত প্রায় ৩ মাস আগে সানজিদা ও তার বড়বোন শান্তা বি-বাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার শরিফপুর গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে টঙ্গীর বনমালাস্থ জনৈকা বাড়িওয়ালা ডেইজি শিকদারের সাথে সাবলেট বাসা ভাড়া নেয়। তারপর স্থানীয় মা টাওয়ারের অ্যামনেষ্টিক গার্মেন্টস কারখানার ৫ তলার সুইং সেকশনে হেলপার হিসেবে কাজে যোগ দেয়। ওই সেকশনের সুপারভাইজার এবং সিলেট জেলার জগন্নাথপুর থানার বেরী গ্রামের বাসিন্দা গুলজার মিয়ার ছেলে আজমল হোসেনের সাথে পরিচয় হয় সানজিদার। পরিচয় সূত্রে আজমল হোসেন সানজিদাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গোপনে টঙ্গীর ষ্টেশন রোডে কাজী অফিসে নিয়ে গত প্রায় এক মাস পূর্বে বিয়ে করে।

সানজিদার বড় বোন শান্তা জানান, আমার বোনের বিয়ের বিষয়টি আমরা জানতাম না। বিয়ের পর জানতে পারি। সুপারভাইজার আজমল তাকে বিয়ে করেছে। কারখানায় বিয়ের বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর অনেকেই বলেন, আজমল হোসেনের আরো একটা বউ আছে। সানজিদা বিষয়টি জানতে পারে এবং তার স্বামীকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

নিহতের বোন আরো জানান, গত কয়েকদিন আগে সানজিদা বেতন পেয়ে ওই টাকায় সে ঘরের আসবাবপত্র ক্রয করে। বেতনের টাকা খরচ করায় স্বামী আজমল ক্ষীপ্ত হয়ে সংসারে অশান্তি ও সানজিদার উপর অত্যাচার শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। আমার বোনকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

নিহতের স্বামী আজমল হোসেন বলেন, আমি শুক্রবার বিকেলে কারখানা থেকে বাসায় এসে সানজিদাকে নিয়ে ঘুরতে বের হই। বনমালা রেললাইনে ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় বাসায় আসার পর আমি কয়েল আনতে দোকানে গেলে সানজিদা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফাঁসিতে ঝুলে পড়ে। সে কেনো এ কাজ করেছে বলতে পারবো না। পরে বাড়িওয়ালী ডেইজি শিকদারের সহায়তায় ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে ফাঁসির ওড়না কেটে সানজিদাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এব্যাপারে বাড়ির মালিক ডেইজি শিকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি রহস্যজনক কারণে ঘটনাটি এড়িয়ে যান এবং বলেন, এব্যাপারে আমি আপনার সাথে শুধু শুধু কোন কথা বলতে পারবো না, আপনি যা শুনছেন তা লিখে দিন।

খবর পেয়ে গ্রাম থেকে নিহত সানজিদার বাবা ফিরোজ মিয়া রাতেই টঙ্গী আসেন। তিনি জানান, আমরা থানায় অভিযোগ করেছি, লাশ ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজ উদ্দিন মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ট তদন্ত এবং বিচার চাই।

টঙ্গী পূর্ব থানার এস আই অহিদ জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ের অভিভাবক অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত চলছে। ময়নাতন্ত রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত কোন হত্যা না আত্বহত্যা সে ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে না।

পোস্টটি শেয়ার করুন