সিরাজদিখানে অর্ধাহার অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আলীনুর

শিরোনাম সারাদেশ

মোঃ জামাল হোসেন মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে অর্ধাহার অনাহারে স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আহাম্মদ আলীর ছেলে আলীনুর।

তিনি ৩ সন্তানের জনক, বড় মেয়ে সুমি আক্তার (২৩) ও ২ ছেলে সাইম (১৬)  মাইম (১১) নামে, ছেলেরা নাবালক হওয়ায় সংসারে রোজগার করার কেউ নেই। পরিবারে একমাত্র রোজগার করা ব্যাক্তি আলীনুর মিয়া হার্ড এ্যাটাকে বেঁচে গেলেও তার শারীরিক শক্তি নিশতেজ হয়ে প্যারালাইসিসে তাকে কর্মক্ষম করে দেয়। তিনি ঠিকমত হাটাচলা ও জোড়ে কথা বলতে পারেনা। হাতে লাঠি ও অন্যের সাহায্য নিয়ে কোনোরকম চলাফেরা করেন। বসবাসের জন্য নেই নিজস্ব কোনো যায়গা ও ঘর।

আলীনুর মিয়ার এই দুঃখ দুর্দশা দেখে একই গ্রামের ফজল হক সরদারের ছেলে মানবাধিকার কর্মি মোঃ সৈয়দ হোসেন, বলেন লোকটি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ, ওনার ৩ সন্তানের মধ্যে মেয়েই বড়, ছেলে দুটি সাবালক না হওয়ায় সংসারে রোজগার করার কেউ নেই। এই অবস্থা দেখে আমার বাড়ির পুরনো ঘরে তাদের থাকার যায়গা দিয়েছি।

অসুস্থ্য আলীনুরের পিতা বৃদ্ধ আহাম্মদ আলী বলেন আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি, সুস্থ্য করতে পারিনি। এখন উপায়ন্তর না পেয়ে দেশবাসী ও সরকারের কাছে সহযোগিতা চাচ্ছি। আমার ছেলেকে নাতি নাতনি নিয়ে চলার, চিকিৎসার ও থাকার একটা ব্যবস্তা করে দেন।

অসুস্থ্য আলীনুর দেশবাসী ও সরকারের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়ে বলেন আমি সবার সাহায্য চাই, ছেলে মেয়ে নিয়ে বাঁচতে চাই।

মাইম(১১) বলেন আমার বাবা অনেক দিন ধরে অসুস্থ হাটাচলা ও কাজ করতে পারেনা। বাবার জন্য সবার কাছে সহযোগিতা চাই আমি পড়ালেখা করতে চাই।  

আলীনুরের এক আত্মীয় জহিরুল ও স্থানীয় আলী হোসেন এবং উজ্জল জানান আসলে বেপারটা খুব দুঃখজনক, অসুস্থ মানুষ, ৪-৫ জন মানুষ পরিবারে ১ টাকা রোজগার নাই। টাকার অভাবে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। চিকিৎসা নেবারও নেই কোনো উপায়, খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারটি।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া জানান বিষয়টা অত্যান্ত মর্মান্তিক, আমাদের গ্রামে এই একটা লোক দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ছেলে মেয়ে সংসার নিয়ে খুব কষ্টে আছেন। থাকার যায়গা নেই, রোজগার করার কেউ নেই। টাকার অভাবে চিকিৎসাহীন অবস্থায় খেয়ে না খেয়ে অন্যজনের বাড়িতে থাকে। আমি ত্রান সহযোগিতা করি। কিন্তু তাতে তার কিছুই হয়না।

এ বিষয়ে উপজেলা জনসেবা অফিসার সুমন মাধু বলেন, আমাদের যাবতীয় যে সুযোগ সুবিধা আছে তা নিয়ে আমরা তার পাশে দাঁড়াবো, এক্ষেত্রে সমাজ কল্যাণ পরিষদ থেকে এক কালিন ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়, এর ভিতরে ক্যান্সার কিডনি লিভারোসিস স্ট্রোকে প্যারালাই জন্মগত রূদরোগ আক্রান্ত রোগিদের ক্ষেত্রে সমাজ সেবা অদিতপ্তরের বিবেচ্চ বিষয় অনুযায়ী সে যদি প্রতিবন্ধি হয়ে থাকে আমি সরেজমিনে দেখে প্রতিবন্ধি ভাতাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্তা করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন আলীনুরের বেপারটা জানতাম না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, আমি নিজে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে আসবো এবং সে যাতে ভালো ভাবে চলতে পারে এমন কোনো ব্যবস্তা গ্রহন করবো।

পোস্টটি শেয়ার করুন