ভাঙ্গায় শেষ মুহুর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত খামারীরা বিক্রি নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায়

শিরোনাম সারাদেশ

মোঃ সরোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা(ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় শেষ মুহুর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গো-খামারীরা। আর কদিন পেরুলেই কোরবানী।

এরই মধ্যে খামারীরা তাদের পশুগুলোকে বিভিন্ন খাবার ও পরিচর্যার মাধ্যমে মোটাতাজাকরন করে বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন। তবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভয়াবহ রুপ ধারন করায় উপযুক্ত দাম না পাওয়ার শংকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারীরা। তারা দিনরাত পরিচর্যার মাধ্যমে কোরবানীর পশু মোটাতাজাকরন করে ভাল লাভের আশা করছেন। উপজেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকসহ ৫৫২ জন খামারী ৪২৩১ টি গরু ও ১৬১৩টি ছাগল কোরবানীর বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন।

দীর্ঘ্যদিন খইল,ভু’ষি সহ বিভিন্ন খাবার খাইয়ে পশু গুলো মোটা তাজা করন করছেন। এজন্র তাদের প্রচুর আর্থিক ও শ্রম দিতে হয়েছে। তবে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে ফরিদপুরের করোনা অবস্থা আরও ভয়াবহ। প্রতিদিন এখানে বাড়ছে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা একই সাথে মৃত্যু।

স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হওয়ায় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। সীমিত পরিসরে কিছু সংখ্যক হাটবাজার বসলেও নিয়ে বিক্রয়ের শংকা নিয়ে দুশ্চিন্তার ভাজ পড়েছে খামারীদের কপালে। এবারে প্রাণিসম্পদ দফতর এর তরফ থেকে অনলাইনে গরু বেচাকেনার কথা বলা হলেও তা খামারীরা বুঝে উঠতে পারছেন না। এবারে উপজেলায় বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানে প্রচুর খামার গড়ে তুলেছেন। ঠিকমত বিক্রি করতে না পারলে এ শিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে।

উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাউতিকান্দা এলাকার খামারী এক বেকার যুবক হায়দার হোসেন একটি গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। তার খামারে বেশ কয়েকটি একটি বড় ষাড় ছাড়াও রয়েছে আরও ১০টি ষাড়। তার গরুটি শখ করে নাম রেখেছেন সাহেব। ২৫ মন ওজনের এই গরুটির উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া নিয়ে তিনি চিন্তিত।

তার মত এমন অনেক খামারী তাদের কোরবানীর পশু বিক্রয়ের শংকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।আরেক খামারী ইউসুফ আলী,নান্নু মিয়া বলেন, আমাদের করোনার কারনে সব স্বপ্ন বিসর্জন হয়ে গেছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা খামারীদের নিয়ে অনলাইন পশুর হাটের মাধ্যমে খামারীদের পশু বিক্রয়ের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পশুর চিকিৎসা ও ক্ষতিকারক ওষুধ দিয়ে মোটাতাজাকরনে খামারীদের নিরুৎসাহিত করছি।

তবে খামারীদের দাবি, ঈদ ঘনিয়ে আসছে অতি দ্রুত প্রশাসন একটি ব্যবস্থা গ্রহন করে পশু বেচাকেনার ব্যবস্থা গ্রহন করবে এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

পোস্টটি শেয়ার করুন