চিলমারীর ভাসমান ডিপোগুলো তেল শুন্য, বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকটের সম্ভাবনা!

শিরোনাম সারাদেশ

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে স্থাপিত মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানীর বার্জ দুটি ডিজেল শূন্য হয়ে পরেছে। ফলে বার্জে তেল না থাকায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা পুরনে ডিজেল সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকট দেখা দেওয়ায় তেলবাহী জাহাজ গুলি তেল নিয়ে অসতে বেগ পেতে হচ্ছে হেতু তেল সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে মর্মে জানা গেছে।

জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন জায়গায় ডুবো চর জেগে উঠায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নদে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তেলবাহী জাহাজ গুলি উপজেলার জোড়গাছ ভাসমান তেল ডিপোতে জাহাজ ভর্তি তেল নিয়ে আসতে তাদেরকে চ্যানেল পাল্টিয়ে নদের নাব্যতা দেখে শুনে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়াও একটি জাহাজ যে পরিমান তেল নিয়ে আসার কথা, সে পরিমান তেল নিয়ে আসতে পাচ্ছে না। তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, বর্তমানে ডিজেলের চাহিদা তেমন একটা না থাকলেও আসন্ন বোরো মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাবে। পূর্ব থেকে ভাসমান ডিপোতে তেল মজুদ না থাকলে হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ডিজেলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং ডিজেলের লিটার প্রতি মূল্য বেড়ে যেতে পারে।

বর্তমানে চিলমারী ভাসমান তেল ডিপোতে ডিজেল না থাকায় তেল ব্যবসায়ীদেরকে পার্বতীপুর ও রংপুর রেলওয়ে ডিপো থেকে ট্যাংক লড়িতে করে ডিজেল নিয়ে আসতে হচ্ছে। এতে তাদের কেরিং কষ্ট বেড়ে গেছে।

মেসার্স মতিউর রহমান এর স্বত্বাধকারী মোঃ ফুলবাবু জানান, তিনি গত ২০ নভেম্বর পার্বতিপুর থেকে ট্যাংক লড়ি যোগে ৯ হাজার লিটার ডিজেল ক্রয় করে চিলমারীতে আনতে তার ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।একই দিনে ডিলার মেসার্স আনোয়ার হোসেন বাদল নিয়ে এসেছেন ১২ হাজার লিটার এবং মেসার্স জোড়গাছ ষ্টোর নিয়ে এসেছে ১৮ হাজার লিটার। এই তেল আনতে তাদের যে বাড়তি ক্যারিং কষ্ট পরেছে, চিলমারী ডিপো থেকে ক্রয় করলে অনেটা সাশ্রয় হতো। তিনি বলেন, কেরিং কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ডিজেলের খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে লিটার প্রতি ৬৬.৫০ টাকা। সরকারী ভাবে নির্ধারিত লিটার প্রতি মূল্য ছিল ৬৫.৩০ টাকা । এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন বোরো মৌসুমে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়ে মূল্য বৃদ্ধি ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে, নাব্যতা সংকটের কারণে যমুনা ওয়েল কোম্পানী গত শনিবার জোড়গাছ ঘাট থেকে তাদের বার্জটি অস্থায়ীভাবে উপজেলার পুটিমারী এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে। যমুনার দুটি বার্জে মোট ডিজেল ধারন ক্ষমতা সাড়ে সাত লাখ লিটার। যমুনা ওয়েল কোম্পানীর চিলমারীতে দায়িত্বরত ডিএস মোঃ তোফাজ্জল হক এর মুখোমুখি হলে তিনি জানান, গত ২০ নভেম্বর তার ডিপো ডিজেল শূন্য হয়েছে। তিনি অফিসিয়াল লোড প্রোগ্রাম দিয়েছেন কিন্ত নদীতে নাব্যতা না থাকায় কবে নাগাদ জাহাজ ডিজেল নিয়ে তার ডিপোতে আসবে, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

অপরদিকে মেঘনা ওয়েল কোম্পানীর ডিএস মোঃ আবু সাইদের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন গত ১ সপ্তাহ যাবৎ তার বার্জটি তেল শূন্য রয়েছে। তার বার্জে ডিজেল ধারণ ক্ষমতা সাড়ে ৪ লক্ষ লিটার। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ১ লক্ষ লিটার কিন্তু সেচ মৌসুমে বা আসন্ন বোরো মৌসুমে প্রতিদিনের চাহিদা দাঁড়াবে আড়াই থেকে ৩ লক্ষ লিটার। তবে খুব শীঘ্রই তার ডিপোতে ডিজেল আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।

এদিকে চিলমারী ভাসমান তেল ডিপো টি থেকে কুড়িগ্রাম, চিলমারী, রৌমারী, রাজীবপুর, জামালপুর, উলিপুর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, কচুকাটা, গাইবান্ধাসহ নদী পথে বিভিন্ন এলাকায় তেল সরবরাহ করে থাকে। আসন্ন বোরো মৌসুমে ভাসমান ডিপোটি থেকে চাহিদা মোতাবেক তেল বা ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চরাঞ্চলের সেচ নির্ভর কৃষি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে মর্মে কৃষকরা আশংকা করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন