সুমির অভিযোগের তীর স্বামীর দিকে

শিরোনাম সারাদেশ

মোঃজাহেদ বিন আল মাসুদ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরী সুমি আক্তার। অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। অভাবের সংসার আর চার ভাই বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় সুমি বাধ্য হয়েছিল রোজগারের পথ বেছে নিতে। পড়ালেখার ইতি ঘটিয়ে পারি জমায় ঢাকার উদ্দেশ্যে। আশ্রয় নেয় মামা হাসান আলীর বাসায়। সেখান থেকে সুমি কাজ নেয় একটি সুইটার গার্মেন্টসে। বিপত্তি শুরু এখান থেকেই। পরিচয় হয় ঢাকার আশুলিয়া চারাবাগ মাদ্রাসা রোড এলাকার হাজী ইব্রাহিমের ছেলে নুরুল ইসলামের সাথে। এরপর থেকে নুরুল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতো সুমিকে। প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করায় সুমিকে অপহরনও করে নুরুল। একাধারে সাত দিন শারিরীক নির্যাতনের পর বাধ্য করে তাকে বিয়ে করতে। বিয়ের পর সুমি জানতে পারে এর আগে একই ভাবে আরো তিনটি বিয়ে করেছে নুরুল। রয়েছে একাধিক সন্তানও। করার কি? সবকিছু মেনে নিয়ে ভাগ্যাহত এই কিশোরি স্বপ্ন বুনতে শুরু করে নতুন জীবনের। বছর না ঘুরতেই স্বামী নুরুল ইসলাম ট্রাভেল এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’র সাথে যোগসাজস করে কৌশলে সুমিকে বিক্রি করে দেয় সৌদী কফিলের (নিয়োগ কর্তা) কাছে। সৌদী পৌছার পর থেকেই শুরু হয় ১৭ বছর বয়সী এই সুমির উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন।সুমির বাবার বাড়িতে গেলে তার পরিবার ও সে এসব তথ্য জানায়।

সুমি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতি সেনপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সৌদী আরবে সুমির সঙ্গে ঘটে যাওয়া পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান সুমি। পরবর্তীতে ভিডিওটি ভাইরাল হলে দেখা যায় সুমি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছে আমি আমার পরিবারে কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। এখানে আমার ওপর অনেক নির্যাতন হয়। আর কিছুদিন থাকলে হয়তো মরেই যাবো। তাই প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ আপনারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সুমিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সিরাজুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। এরপর গত সোমবার (৪ নভেম্বর) রাতে সুমিকে সৌদি আরবের জেদ্দার দক্ষিণ নাজরান এলাকার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সৌদী পুলিশের তত্ত্বাবধানে নাজরান শহরের একটি সেইফ হোমে রাখা হয় তাকে।

পরদিন মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে দেওয়া এক চিঠিতে সুমি আক্তারকে দেশে ফেরাতে ট্রাভেল এজেন্সি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’কে ২২ হাজার রিয়াল (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা) ও প্লেনের টিকিট দেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে সুমিকে দেশে ফেরার ‘ফাইনাল এক্সিট’ দেয়।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরে সুমি। সুমির বাবা রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সংকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমার মেয়েকে সৌদী পাঠানো হয়েছে আমরা অনেক পরে জানতে পেরেছি। আগে জানতে পারলে মেয়েকে কখনই সৌদী যেতে দিতামনা। সুমি বর্তমান শারিরীক ভাবে অসুস্থ। সাধ্যমত আমরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি।

পোস্টটি শেয়ার করুন