জীবন যুদ্ধে হার না মানা ৫ জন ‘জয়িতা’ নারী

বাংলাদেশ শিরোনাম

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ৫ জন সফল নারীকে জয়িতা হিসেবে গত ৯ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘জয়িতা’ অন্বেষণে বাংলাদেশ কার্যক্রমের আওতায় সংবর্ধিত করা হয়েছে। জীবন যুদ্ধে হার না মানা এসব নারী পৌঁছাতে চান স্বপ্নচুড়ায়।

মোছাঃ হালিমা বেগম: মোছাঃ হালিমা বেগমের জমিজমা অনেক ছিল। কিন্তু নদীগর্ভে বিলীন হওয়া সত্ত্বেও তার একক প্রচেষ্টায় ১০ ছেলে মেয়েকে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। হালিমা বেগমের চার ছেলে ও ছয় মেয়ে যারা সকলেই স্বশিক্ষিত। তার ১ম সন্তান মোঃ রফিকুল ইসলাম (এমএ) বাণিজ্য মন্ত্রীর একান্ত সচিব। ২য় সন্তান মোঃ সফিউল আলম (বিএ) উচ্চ পর্যবেক্ষক, আবহাওয়া অধিদপ্তর, রংপুর, ৩য় সন্তান মোঃ সাইফুল আজম (বিএসএস) পেশাঃ লোকো মাষ্টার, বাংলাদেশ রেলওয়ে, তিনি কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস এর প্রথম রেল চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, ৪র্থ সন্তান মোঃ সাজেদুল ইসলাম (এমকম) হিসাব রক্ষক, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ঠাকুরগাও, ৫ম ও ৬ষ্ঠ সন্তান মোছাঃ লায়লা সিদ্দিকা ও রহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বাকি সন্তানেরা সুশিক্ষিত হয়ে সংসার করছেন। এ বছর তাকে একজন সফল জননী হিসেবে সংবর্ধিত করা হয়।

মোছাঃ লালভানু বেগম: মোছাঃ লালভানু বেগম এর শিক্ষা জীবন শুরু হয় রমনা ছিন্নমুকুল নামক প্রতিষ্ঠানে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বাল্য বিবাহ দিতে চাইছিল। কিন্তু তাতে সে রাজি ছিল না। বাবা রাজি করিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যায় সে। লালভানু বেগম যখন এইচএসসিতে পড়ে তখন তার বাবা হঠাৎ অসুস্থ্য হয় এবং মৃত বরন করে। পরিবারে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। ৪ বোন ১ ভাই ও বিধবা মাকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকে। এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদীতে লালভানুদের বসত বাড়ী কয়েকবার ভাঙ্গার পর বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেয়। বাল্যবিয়ের শিকার বড় বোনের সংসারেও অশান্তি। এ সময় অন্য ২ বোন ও ১ ভাই নিয়ে খুবই বিপদে পরে তারা। একমাত্র ভাই অন্যের কথায় বিয়ে করে শশুর বাড়ীতে চলে যায়। লালভানুর আগ্রহ তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। এইচএসসি পাশ করার পর পরেই জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমে চাকুরী হয় তার। এ থেকে সমাজের অবহেলিত ও নির্যাতিত জনগোষ্ঠির সেবা করা সুযোগ পায় সে। চাকুরীর পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যায় সে। বিএ পাশ করে এখন এম এ তে অধ্যায়নরত। লালভানু বেগম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে এবং বর্তমানে আরডিআরএস- বাংলাদেশ এর প্রকল্প বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস প্রকল্পে চাকুরী করে অবহেলিত নারীদের বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনার মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।

মোছাঃ মোসলেমা খাতুন: মোছাঃ মোসলেমা খাতুনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় কম বয়সে বিয়ে দিতে চেয়ে ছিলেন তার পরিবার। কিন্তু সে রাজি ছিল না। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেখার। ছিন্নমুকুল নামে একটি সংস্থা দুপুরের খাবারসহ লেখাপড়া শেখায়। এ কথা শুনে মা রাজি হলো ঐ স্কুলে ভর্তি করাতে কিন্তু বাবা রাজি ছিলেন না। যেখানে ভর্তি হয় সে। প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত তার রোল ছিল এক। যখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে, তখন ঐ স্কুলে গিয়ে শোনে বিদ্যালয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। তার শুধু মনে হত লেখাপড়ার হাল ছাড়ব না। এক সময় লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সেই সময় মেধাবী কল্যাণ সংস্থা মোসলেমার পাশে দাঁড়ায়। এই সংস্থার সহায়তায় এস,এস,সি পাশ

পোস্টটি শেয়ার করুন