হিল্লে বিয়ে ; সাব্বির আহমেদ

শিরোনাম শিল্প-সাহিত্য

হিল্লে বিয়ে
সাব্বির আহমেদ

আমাদের গাঁয়ে নইমদ্দিন সাদাসিধে লোক অতি,
গত শাওনে হলো ঘটা করি জরিনা বিবির পতি।
জরিনা বিবি আওরাত খুবি দেখতে চমৎকার,
নইমদ্দির আঁধার ঘরে ঘুচালো অন্ধকার।
দিপ্ত ছড়ানো ও বদন পানে চেয়ে থাকে অনিমেষ,
পরের জমিতে বদলা খেটে দিন চলে যায় বেশ।
খুশি ছড়াছড়ি ছোট ঘড় খানি সর্গ নামিয়া আসে,
নতুন করিয়া খুশির বার্তা পেলো ফাগুন মাসে।
কিছু দিন পরে আসিল ঘরে চাঁদের টুকরা খানি।
যত দিন যায় মেয়ে যেন হয় বাবার চোখের মনি।
কোন একদিন নইমদ্দিন শনিতে করিল ভর,
কালবৈশাখী ভাঙ্গিয়া দিল তাহার সুখের ঘড়।
কলহের যেরে বধু জরিনারে তালাক বলিয়া দিলো,
একে একে সেই ছোট্ট কথাটি গ্রামময় রটে গেলো।
হায় জরিনা আর পারেনা থাকতে পতির ঘড়ে,
ফিরে গেলো সে বাপের বাড়িতে সাথে নিয়ে মেয়েটিরে।
নইমদ্দিন কাঁদে সারাদিন একি করিলো কাজ!
দিনে দুপুরে বিনা মেঘে তার মাথায় পরিল বাজ।
নইমদ্দি করিয়া বুদ্ধি মড়লের পায়ে ধরে,
ধরি দুটি পায় তুমি বাপ মায় এনে দাও জরিনারে।
মড়ল কহে কাজটা নহে সহজ কারবার,
হিল্লে বিয়ে আগে দিয়ে ঘড়ে নিবি তার পর।
গাঁয়ের মড়ল মনেতে গড়ল ঘড়ে বিবি চার খানা,
আরো ভালো হয় যদি বিবি হয় পঞ্চমে জরিনা।
নইমদ্দিন ভাবনার বিন বাজিল তাহার প্রাণে,
কেবা ভালো লোক মোর জরিনারে বিয়ে দেব কার সনে?
মুচকি হাসিলো মড়ল কহিলো কেন ভাবো তুমি মিছে,
আমি কি তোমার পর কেহ নাকি বিয়ে দাও মোর কাছে।
জরিনারে পেতে সব পথে যেতে নইমদ্দিন রাজি,
পাঁচ নাম্বার বিবি বানাতে মড়ল ডাকিল কাজি।
দিন হলো গত প্রায় তিন শত মড়লের নেই সাড়া,
বৌ নিতে এলে মড়ল তাহারে লাঠি নিয়ে করে তাড়া।
ধরে হাতে পায় মড়লেরে কয় জরিনারে চাই ফিরে,
নিষ্প্রাণ আমি ওকে ছাড়া বলো কেমনে থাকিব ঘড়ে।
দাঁতকপাটি হেসে কুটিকুটি মড়ল কহিলো বাছা!
সাহস বেজায় আছে বটে!বৌ নিতে চাস হাছা?
হায় জরিনা আর পারে না এ সকল সহিতে,
শকুনের ঘড় করিয়াছে সে পতিধন ফিরে পেতে।
আজ সে আশা হয় নিরাশা কি করিলো অবশেষ,
আত্মঘাতী হয়ে জীবনের ঘুচালো সকল ক্লেশ।
আর কত‌ জরিনারা বলো অকালে ঝড়াবে প্রাণ?
তবু এ সমাজপতিরা রবে চিরকাল মহীয়ান!!!

পোস্টটি শেয়ার করুন